স্তন ক্যান্সার সাধারণত স্তনের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে হয় । কিছুদিনের মধ্যে এই কোষ দ্রুত বৃদ্ধির ফলে একটি কোষপিণ্ডে পরিণত হয়। এরূপ কোষপিণ্ডকে আমরা টিউমার বলে থাকি । এই টিউমার মাঝে মাঝে ক্যান্সার এ পরিণত হয় । এটি আপনার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিকারক হতে পারে। ফুসফুসের ক্যান্সার এর মতোই স্তন এর ক্যান্সার আজকাল খুব বেড়ে উঠেছে ,বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে । তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে এই রোগ ঠিক হয়ে যায় ।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো কি তা জানা যাক:
স্তনের ক্যান্সারের উপসর্গ
যদিও স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হিসাবে অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না, তবুও কিছু সাধারণ উপসর্গ স্তন ক্যান্সারের নিচে দেওয়া হলো ।
কি থেকে স্তন ক্যান্সার হয়
স্তনের ক্যান্সার হওয়ার পেছনে অনেক রকম কারণ আছে। ৩০ বছর বয়সের পরে প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়া । দিনে ২ থেকে ৩ বার মদ্যপান করা । ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পরে অতিরিক্তি ওজন বৃদ্ধি হওয়া । তাড়াতাড়ি ঋতুচক্র শুরু হওয়া অথবা দেরি করে বন্ধ হওয়ার ফলেও ইস্ট্রজেন হরমোনের ওপর অত্যধিক প্রভাব পরে স্তনে বাড়তি টিস্যু বৃদ্ধি হওয়ার জন্যও এই রোগ হয় । পরিবারে কোন নিকট আত্মীয়ের এই রোগ হওয়ার ইতিহাস থাকলেও হতে পারে ।
কত রকম স্তন ক্যান্সার হয়
স্তন ক্যান্সার অনেক রকম হয় । সব থেকে বেশি মাত্রায় হয় ইনভ্যাসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা( Invasive Ductal Carcinoma (IDC) । এই ক্যান্সার আক্রমণমূলক আর তাড়াতাড়ি স্তনের বিভিন্ন টিস্যু তে ছড়িয়ে পড়ে । লবিউল কার্সিনোমা (Lobule Carcinoma) আরেক ধরণের ক্যান্সার । স্তন প্রচুর মেদকোষ ও গ্রন্থিকোষ দিয়ে তৈরী। গর্ভস্থ মায়ের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরণ হরমোন ক্ষরণের ফলে স্তনের দগ্ধক্ষরা কোষ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এরকম অনেকগুলো কোষ মিলে তৈরি হয় লবিউল,সেই খানে হওয়া ক্যান্সার হলো লবিউল কার্সিনোমা । আরেক ধরণের হলো ডাক্টাল কার্সিনোমা (Ductal Carcinoma) যা
দুগ্ধনালির কোষের ভেতরের দেয়ালে হযে থাকে এবং এটি বাকি দুটো ক্যান্সার এর মতো আক্রমণাত্মক নয় ।
চিকিৎসা
স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসা সাম্প্রতিক কালে অনেক উন্নত হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্র এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে । প্রথম ১ থেকে ৩ ধাপ এ অস্ত্রোপচার , বিকিরণ থেরাপি, কেমো থেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং HER2 মতো ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা করা হয় । আপনার স্তন , বগলের তলা , গলা , কণ্ঠা, বুকের হার, স্তনের পেশী এই সব জায়গার পরীক্ষা করা হয় । রোগীর কী ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন তা কোনও একজন ডাক্তার নন, বরং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয় ।
পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল স্তন ক্যান্সার এর পর্যায়, আকার এবং অবস্থান বিশ্লেষণ করে সেই মতো চিকিৎসা নির্ধারণ করে। একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ তার থেরাপিউটিক রেডিওগ্রাফার কে সাথে নিয়ে পুরো ব্যাপারটা পরিকল্পনা করে । যে অংশে ক্যান্সার এর সূত্রপাত সেখানে যথাযথভাবে সঠিক চিকিৎসার দ্বারা এই রোগকে শরীর এর বাকি অংশ যেমন হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসে ছড়ানোর থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় । প্রথম দিকে ধরা পড়ে যাওয়ার পর যদি সঠিক স্থানে সঠিক চিকিৎসা হয় তাহলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব ।

