রান্নাঘর আমাদের বাড়ির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এটা খাদ্য , স্বাস্থ্য , জীবনীশক্তি , এবং কর্মশক্তির উৎস । তাই খেয়াল রাখতে হবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেন সবসময় ইতিবাচক শক্তি বিরাজ করে । আপনি এই ইতিবাচক শক্তি গড়ে তুলতে বাস্তুশাস্ত্র এর সাহায্য নিয়ে আপনার রান্নাঘরটি পরিকল্পনা করলে নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার রান্নাঘরে সর্বদা গঠনমূলক, ফলপ্রসূ এবং ইতিবাচক বাতাবরণ বজায় থাকবে ।
বাস্তু শাস্ত্র বিজ্ঞান এর এমন একটি অধ্যায় যেখানে মূলতঃ পাঁচটি উপাদান আগুন, জল, বায়ু, আকাশ এবং পৃথিবীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এর দ্বারা ভারসাম্য বজায় রাখা হয় । এই ভারসাম্য সমৃদ্ধির অগ্রদূত হয়। এখানে কয়েকটি বাস্তু পরামর্শ দেওয়া হল, যা আপনি সহজেই আপনার রান্নাঘরে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন ।
রান্নাঘরে বিভিন্ন সামগ্রী রাখার স্থান
- অগ্নি দেবতা বিরাজ করেন দক্ষিন পূর্ব দিকে ,তাই আপনার রান্না ঘর যেন দক্ষিণ পূর্ব দিকে হয় , যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে রান্নাঘর উত্তর পশ্চিম দিকে করুন ।
- রান্নার জন্য ব্যবহৃত সমস্ত যন্ত্রপাতি, প্রাথমিকভাবে গ্যাস স্টোভ এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা উচিত। গ্যাসের স্টোভ রান্নাঘরে প্রবেশের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়
- বাসন ধোয়ার জায়গা যেমন রান্নাঘরের সিঙ্ক , বাসন পরিষ্কার করার মেশিন (dish Washer) , জলের পাইপ ,আর রান্নাঘরের নালি উত্তর দিকে বা উত্তর পূর্ব দিকে বানানো দরকার । খেয়াল রাখবেন যেন উপরিক্ত জিনিসগুলি গ্যাস স্টোভ থেকে দূরে হয় ।
- শুধু জলের ট্যাঙ্ক এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নয় । জলের ট্যাঙ্ক রান্না ঘরের বাইরে পশ্চিম দিকে হওয়া উচিত , এতে অগ্নি আর জল এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে যা সুন্দর স্বাস্থ্য আর সমৃদ্ধি বহন করে ।
রান্না ঘরের ভিতর
- রান্না ঘরের মেঝে মার্বেল , মোজাইক , বা সেরামিক এর টাইলস এর যেন তৈরি হয় ।
- খেয়াল রাখবেন রান্না ঘরের দেয়াল যেন গোলাপের রঙ ,লাল, কমলা , হলুদ, বা চকলেট এর মত উজ্জ্বল রঙের হয় । কালো রঙ ব্যবহার করবেন না এতে আপনার রান্নাঘরে নেতিবাচক শক্তি বিরাজ করবে।
- বাড়িতে সমৃদ্ধি আনতে গেলে , খেয়াল রাখবেন খাদ্য শস্য , ডাল , বাকি মশলা আর বাসনপত্র দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে যেন রাখা থাকে ।
- রেফ্রিজারেটর যদি দক্ষিণ পশ্চিম দিকে রাখা হয় তাহলে সমস্ত বাধা বিপত্তি কে দূরে রেখে পরিবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে ।
- গ্যাস সিলিন্ডার আর জল গরম করার মেশিন(gyser) যেন দক্ষিন পূর্ব দিকে থাকে, আর ধোঁয়া নিষ্কাশন পাখা (exhaust fan) যেন পূর্ব দিকে লাগানো হয় ।
- রান্নাঘরের স্ল্যাব জিনিসপত্র দিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে সব সময় পরিষ্কার রাখবেন , এতে রান্নাঘরে ইতিবাচক শক্তি বিরাজ করে যার ফলে রান্নাঘরে থাকাকালীন এক ভালোলাগার অনুভূতি পাওয়া যায় ।
- রান্নাঘরে ২টি তুলসি গাছের চারা লাগান বাতাস দূষণ মুক্ত রাখতে
একটা জিনিস মাথায় রাখবেন রান্নাঘর বানানোর সময়
- রান্নাঘরের দেয়াল যেন কোনও ভাবেই , শৌচাগার , ঠাকুর ঘর , আর শোয়ার ঘরের সাথে লাগোয়া না হয় । এমন কি রান্নাঘরের ওপরে বা নিচেও উপরিক্ত ঘরগুলি না হয় ।
- রান্নাঘরের দরজা যেন শৌচাগারের দিকে না হয় আর বাড়ির প্রধান প্রবেশ দ্বারের দিকেও না হয় ।
- রান্নাঘরে প্রবেশ করুন পূর্ব , পশ্চিম আর উত্তর দিক দিয়ে । আর রান্না ঘরের দরজা মধ্যেখানে বানাবেন কোণার দিকে না বানিয়ে ।
- বড় জানালা পূর্ব দিকে বানাবেন ।
- যদি রান্নাঘরে রান্না করা ব্যক্তি প্রবেশদ্বারটি দেখতে না পারে, তাহলে একটি আয়না বা প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হয় এমন টাইলগুলি রাখুন যাতে তারা সব সময় রান্নাঘরের প্রবেশপথ দেখতে পারে।
এই ছোট ছোট বাস্তু পরামর্শ গুলি মেনে চললে সংসারে সুখ এবং সমৃদ্ধি বজায় থাকে আর পরিবারের সকলের শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে ।
Image sources: Pexels and Flickr.

