কিডনি তে পাথর খুবই সাধারণ আর বেশির ভাগ পুরুষদের হয় মহিলাদের তুলনায়। এটা কোনও মারাত্মক রোগ না কিন্তু সঠিক যত্ন আর চিকিৎসা দরকার কারণ এর যন্ত্রণা খুব অসহ্যকর । এই কিডনির পাথর গুলো খুব স্বচ্ছ হয় কারণ এতে অ্যাসিড লবন আছে আর আছে অন্যান্য উপাদান যেমন অক্সালেট আর ফসফেট যা নানা রকম আয়তন আর আকারের হয় । এটা অলক্ষিত হয়ে যায় যতক্ষণ না সেটা মূত্রনালী তে বাধাসৃষ্টি করে আর তার ফলে অসহ্য ব্যাথা হয় ।
তাই এখনে কিছু লক্ষন , কারণসমূহ আর তার কি চিকিৎসা সেটা দেওয়া আছে
লক্ষন-
প্রথম দিকে কিডনি তে পাথর আছে বোঝা যায় না যতক্ষণ না সেটা মূত্রনালী তে পৌছিয়ে ব্যাথা সৃষ্টি করে । আপনার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে সংক্রমণ এর কারনে , প্রস্রাব অনেক কম হবে আর প্রস্রাব এর জায়গায় জ্বালা হবে , বমি করা , প্রস্রাব এ রক্ত পরা , বমি ভাব , প্রচণ্ড পিঠে ব্যাথা আর তল পেটের ব্যাথা , কুঁচকির কাছে ব্যাথা , আর বার বার প্রস্রাব পাওয়া , এই গুলো কিডনি তে পাথর হওয়ার মূল লক্ষন ।
কারণসমূহ-
সেরকম ভাবে নির্দিষ্ট কোনও একটি কারণ নেই কিডনি তে পাথর হওয়ার, অনেক রকম কারণ এর পেছনে থাকতে পারে , বেশি করে জল না খাওয়া , উচ্চ পরিমানের প্রোটিন খাওয়া বা চিনি খাওয়া , বাইপাস সার্জারি , স্থূলতা , অন্ত্রের অস্ত্রোপচার , পারিবারিক পূর্ব রোগের কারণ, কিডনির রোগ বা পলিসিস্টিক কিডনির রোগ , মূত্রনালীর সংক্রমণ , আর কিছু ওষুধ খাওয়ার ফলে যেমন diuretics এই গুলোই মূলত কারণ কিডনি তে পাথর হওয়ার ।
চিকিৎসা-
কিডনি তে পাথর হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করান যাতে ব্যাথা থেকে রেহাই পাওয়া যায় ,আর প্রস্রাব ও যাতে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ।আপনি ঘরোয়া পদ্ধতি তে কিডনি তে পাথরের চিকিৎসা করতে পারেন নিচে দেওয়া কিছু প্রতিকার অবলম্বন করে।
১। বেসিল পাতার এর রস–
বেসিল এ আছে নানারকম উপাদান যেমন অ্যাসিটিক অ্যাসিড যা পাথর কে ভেঙে দেয় আর গলিয়ে দেয় , এতে এমন কিছু উপাদান আছে যা পাথর হওয়া রোধ করে । প্রতিদিন এক চা চামচ বেসিল এর রস খেলে পাথর গঠন রোধ হতে সাহায্য হয় ।
২। বেদানার রস-
বেদানার রসে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর আস্ট্রিনজেন্ট যা শুধু কিডনি তে পাথর হওয়া রোধ করে না বরং সেটা কে শরীর থেকে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করে। বেদানার রস বা দানা খেলে এর পুরো ফল পাওয়া যায় ।
৩। ড্যান্ডেলিওন এর গোঁড়ার রস-
ড্যান্ডেলিওন পিত্ত উৎপাদন বাড়িয়ে তোলে এবং সহজেই শরীরের আবর্জনা সরিয়ে দেয় । প্রতিদিন ৩-৪ কাপ ড্যান্ডেলিওন এর চা খেলে কিডনির পাথর গঠন রোধ হয় ।
৪। সেলারি পাতার রস-
প্রতিদিন সেলারি পাতার রস খেলে প্রস্রাব উৎপাদন বেড়ে যায় , আর পাথর হওয়া প্রতিরোধ হয় , প্রতিদিন ১ গ্লাস সেলারি পাতার রস সেবন করলে কিডনি তে পাথর হওয়া রোধ হয় ।
৫। হুইটগ্রাসের রস-
হুইটগ্রাস প্রস্রাব উৎপাদন করতে সাহায্য করে আর পাথর কে সহজেই শরীর থেকে বেড়িয়ে যেতে দেয় , হুইটগ্রাস এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লবন আর খনিজ পদার্থ গুলো পরিত্যাগ করতে সাহায্য করে মূত্রনালীর থেকে । প্রতিদিন ১-২ গ্লাস এর রস সেবন করলে কিডনি তে পাথর হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।
যদি এই গুলো কাজে না দেয় তাহলে আপনি ডাক্তার এর কাছে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা করে ওষুধ নিতে পারেন যেমন Tamsulosin যা মূত্রনালি কে সহজ করে তোলে পাথর বেরিয়ে যাওয়ার জন্য । পাশাপাশি আপনি ব্যাথা কমানোর ওষুধ বা বমি ভাবের ওষুধ ও খেতে পারেন , যেটা আপনার পাথর কে কিডনি থেকে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে। যদি এটা কাজে না দেয় পাথরের আয়তন আর গঠন বড় হওয়ার জন্য তাহলে অস্ত্রপ্রচার করতেই হবে ।

