ওজন কমানোর জন্য , অনেকে নানা রকম পদ্ধতি অবলম্বন করছেন যেমন ডায়েটিং , ডায়েট এর ওষুধ খাওয়া থেকে , অতিরিক্ত শারীরিক অনুশীলন । অনেকেই এই পদ্ধতির গুলো অবলম্বন এর দ্বারা ওজন কমানোর শপথ নিয়ে থাকেন । কিন্তু সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে , এই ভাবে ওজন কমানো উচিত । এই পদ্ধতি গুলো অবলম্ব না করাই ভালো এতে ভালোর থেকে ক্ষতি বেশি হবে ।
১। খাবার না খাওয়া
খাবার না খেয়ে ওজন কমানো মোটেই ভালো লক্ষন না ,আপনি যদি খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন তাহলে কিছু ওজন কমাবেন কিন্তু খাবার খাওয়া শুরু করার পর যা কমিয়েছেন তার থেকে বেশি ওজন বেড়ে যাবে আবার খুব দ্রুত গতিতে । কারণ যখন খাওয়া বন্ধ করবেন আপনার খিদে আরও বেশি পাবে আর যখন আবার আপনি খাওয়া শুরু করবেন শরীরে নতুন করে চর্বি জমতে শুরু করবে দিনের পর দিন না খাওয়ার ফলে । পুনরায় যদি আপনি খাওয়া বন্ধ করে দেন তাহলে তার প্রতিফল দেখা যাবে আপনার চুলে আর মুখে যা খুব দ্রুত গতিতে নিজের দীপ্তি আর চমক হারাবে ।
এই পদ্ধতির একটা বিকল্প আছে সেটা হল দিনে ৫-৬ বার অল্প অল্প করে বাড়ে বাড়ে খাবার খান যা আপনার বিপাক হার কে বৃদ্ধি দেবে আর কার্যকরী বানাবে, যাতে আপনার হজম ক্ষমতা ভালো থাকে সব কিছু খাওয়ার পর ও আর খুব ভালো গতিতে হয় ।।
২। ডায়েট পিল বেছে নেওয়া
সাম্প্রতিক কালে অনেক রকম ডায়েট করার উপকরন এসেছে বাজারে আর তার মধ্যে থেকে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হল রোগা হওয়ার বড়ি বা ডায়েট এর বড়ি বা পিলস । যদি আপনি এমন কোনও উপায় খুজছেন যা সহজেই আপনার ওজন কমিয়ে দেবে তাহলে এই সব ডায়েট এর বড়ি মোটেই ভালো নয় কারণ এতে অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর ।
ওজন কমানোর সব থেকে ভালো উপায় হল সময় মতো খাওয়া , প্রতিদিন শারীরিক অনুশীলন , সময় মতো ঘুম আর সকাল সকাল ওঠা আর সুস্থ আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করা ।
৩। কম চর্বি জাতীয় খাবার খুব ভাল মনে করা ওজন কমানোর জন্য
খাবারের শুধু মাত্র কম চর্বি , শূন্য চর্বি বা বিনা চিনি লেখা থাকলেই তা সেটা হয়ে যায় না যদি আপনি খুব সন্তর্পণে তার লেবেল পরে থাকেন তাহলে আপনি বিস্মিত হবেন জেনে যে এই সব খাবারে অতিরিক্ত চিনি বা অন্যান্য চর্বি জাতীয় পদার্থ অনেক বেশি পরিমানে থাকে যা সাধারণ খাবারের সমতুল্য ।
প্রক্রিয়া জাতীয় ( Processed Food ) বা হিমায়িত খাবার ( Frozen Food ) না খেয়ে , টাটকা সবজি , ফল আর টাটকা খাবার খান , একটা সুস্থ শরীরের জন্য সব কিছু খাওয়া জরুরী —কিন্তু সব খাবারের সঠিক পরিমাপ আর কেমন খাবার খাচ্ছেন তা লক্ষ্য রাখবেন ।
৪। জাঙ্ক ফুড একদম খাবেন না
যদি আপনার মন চায় কিছু জাঙ্ক ফুড খেতে যেমন পিজ্জা , স্যান্ডউইচ , বা বার্গার তাহলে নিজেকে বাধা দেবেন না । কোনও ব্যাক্তি যদি ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ইচ্ছা দমন করে ক্যালোরির ভয়ে তাহলে পরে সে এমন কিছু খেয়ে নেয় যা উচ্চ ক্যালোরি সম্পূর্ণ । তাই যদি আপনার কোনও কিছু খেতে খুব ইচ্ছা হয় তাহলে অল্প করে খেয়ে ইচ্ছা পুরন করুন ।
বা বার্গার তাহলে নিজেকে বাধা দেবেন না । কোনও ব্যাক্তি যদি ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ইচ্ছা দমন করে ক্যালোরির ভয়ে তাহলে পরে সে এমন কিছু খেয়ে নেয় যা উচ্চ ক্যালোরি সম্পূর্ণ । তাই যদি আপনার কোনও কিছু খেতে খুব ইচ্ছা হয় তাহলে অল্প করে খেয়ে ইচ্ছা পুরন করুন ।
মনে রাখবেন পিজ্জার বা কেকের ছোট টুকরো আপনার ওজনে তেমন প্রভাব ফেলবে না । যদি আপনি জাঙ্ক ফুড খাওয়া একটু সীমার মধ্যে রাখেন যেমন ৭–১০ দিনে একবার খেলেন তাহলে এটা আপনার স্বভাবে এসে যাবে আর আপনার ওজনও সঠিক মাপে নিয়ন্ত্রিত হবে । এবং আপনাকে সচেতন করে যখন পিজ্জা খাবেন অনেক সবজি আছে সেটা খাবেন ।
ওজন কমানোর সব থেকে গুরুত্ব পূর্ণ অংশ হল নিজেকে সুন্দর অনুভব করা , অনেক সময় মোটা ব্যাক্তিদের বেশি স্ট্যামিনা বা এনারজি আর বিপাকীয় হার রোগা ব্যাক্তির তুলনায় অনেক বেশি হয় । নিজেকে সুন্দর মনে করা হল সুস্থ জীবনের চাবি কাঠি।

