পাইলস অথবা বাংলায় আমরা যাকে বলি অর্শ , যা ভাস্কুলার কুশন এর আকারে দেখা যায় মলদ্বার এর কাছে । অর্শ বা পাইলস হলো পায়ুপথে এবং মলাশয়ের নিম্নাংশে অবস্থিত প্রসারিত এবং প্রদাহযুক্ত শিরা । এটা আমাদের মল পরিষ্কার হতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে । যখন এই অর্শ অতিরিক্ত পরিমাণে ফুলে ওঠে এবং তাদের মধ্যে থাকা রক্তবাহী শিরাগুলি বাড়তে থাকে, তখন এর ফলে ব্যথা, রক্তপাত, চুলকানি হতে পারে , এটি একটি লক্ষণীয় উপসর্গ পাইলস রোগের ।
পাইলস খুব সাধারণ একটি রোগ , ৭০% ভারতীয় এই রোগের দ্বারা পীড়িত । সাধারণত বেশিরভাগ সময় পাইলস ছোট আকারে থাকার ফলে এর কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায়না ফলে মানুষ বুঝতেই পারেনা তার পাইলস আছে ।
কারণসমূহ
এই অর্শরোগের কারণ এখনও পরিষ্কার নয় । কিন্তু চিকিৎসকদের মতে তল পেটে অত্যাধিক চাপের ফলে এই রোগ হয়।
এই চাপ সৃষ্টি হওয়ার কিছু কারণ:
- অত্যাধিক চাপ দেওয়া মল ত্যাগ করার সময়
- ভারি জিনিস তোলা
- খুব ঝাল এবং মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া
- বয়স হওয়ার ফলে কোষ দুর্বল হয়ে যাওয়া
- কোলোরেক্ট্রাল ক্যান্সার
- বহুদিনের কাশি
- প্রস্রাবে দেরী করা
- বার বার বমি করা
- পায়ু সেক্স
- প্রদাহজনক পেটের রোগ
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- ব্যায়াম এর অভাব
- কম ফাইবার যুক্ত খাবার
- লিভার এর সমস্যা
- শিরদাঁড়ায় চোট বা
- ডায়রিয়া
যদিও এই গুলো সাধারণ সমস্যা পাইলস এর , এটা অনেকসময় বংশগত বা জিন গত হতে পারে ।
লক্ষণ
সাধারণ কিছু পাইলস এর লক্ষণ হল:
- লাল হওয়া , ফুলে যাওয়া , আর চুলকানি অনুভব করা মলদ্বার ঘিরে
- শক্ত পিণ্ড গজিয়ে ওঠা মলদ্বারে , এই পিণ্ড হল জমাট বাধা রক্ত আর এটা খুব বেদনাদায়ক
- মল ত্যাগ করার সময় রক্ত পরা , এটায় ব্যাথা হয় না ,এই রক্তের রঙ টকটকে লাল হয়
- মলদ্বারের জায়গা ফুলে ওঠা
- সর্বক্ষণ ব্যাথা আর অস্বস্তি মলদ্বারে
- মল এর ঠিক মতো বেগ না পাওয়া
- মল ত্যাগ করার সময় ব্যাথা
- অর্শ মলদ্বার থেকে বাইরে দিকে ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায়
অবস্থা আরো অবনতি হওয়ার কিছু লক্ষণ
- মলদ্বার দিয়ে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষয় যা অ্যানেমিয়া বা রক্তাল্পতা তে পরিণীত হয়
- সংক্রমণ
- মল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হ্রাস পায় , যাকে বলে ফেকাল অসংযম , মলদ্বারের পথ ছোট হয়ে যাওয়া
- মলদ্বারের ভিতরে এবং এর কাছাকাছি চামড়ার মধ্যে ফিস্টুলা বা ভগন্দর রোগ হওয়া
- রক্ত জমে যাওয়া কারণ অর্শ দ্বারা রক্ত সঞ্চালন এ বাধা পরা
- মল দিয়ে কফ বেরনো
- মলদ্বারে মাঝে মাঝে খিঁচুনি অনুভব করা
- মলদ্বার ভেতর থেকে স্থায়ী ভাবে বেরিয়ে এসে মলদ্বারের বাইরে থাকা
পাইলস নিজে থেকেই সেরে যায় জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে । সব থেকে বড় পরিবর্তন যেটা নিয়ে আসা উচিত , সেটা হল :
১। প্রচুর পরিমানে জল আর ফাইবার জাতীয় খাবার খান
২। প্রস্রাব পেলে সঙ্গে সঙ্গে যান , আটকে রাখবেন না
৩। ওজন কমান
৪। ঝাল খাবার খাওয়া কমান
এই সব পরিবর্তন যদি কোনও তেমন প্রভাব না ফেলে , যদি রক্ত ক্ষয় আর ব্যাথা তখনও হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । চিকিৎসক জায়গা টা পরীক্ষা করে দেখবেন , সঠিক অবস্থা বুঝে চিকিৎসা শুরু করবেন ।
Image sources: Wikimedia, Pexels and Pixabay

