আজকালকার দিনে কেউ যদি মধ্য বয়সে এসে বিনা গাঁটের ব্যাথা বা কোনও অবলম্বন ছাড়াই হাঁটতে পারে তাহলে তিনি সত্যি ভাগ্যবান । আমরা এটা অনুভব করতে তখনই পারি যখন গাঁটের ব্যাথা জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে । যদিও ব্যাথা কমানোর ওষুধ খেয়ে ব্যাথা কমে , কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতিতে যদি ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাহলে সেটা বেশি ভালো হয় , তাই না ?
বেটার বাটার তাই আপনাদের জন্য এমন কিছু ঘরোয়া প্রতিকার এনেছে যার দ্বারা আপনি বিনা ব্যাথায় হাঁটাচলা করতে পারবেন আর এর কোনও খারাপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই।
১। নিজেই নিজের হিটিং প্যাড বানান-
এক জোড়া সুতির মোজা নিন এবং তাতে চাল দিয়ে ভরতি করুন । তারপর মাইক্রওভেন এ ২-৩ মিনিট একটু গরম করে নিন । গরম টা একটু হাতে সহ্য হলে , তারপর আক্রান্ত জায়গায় এটা গরম সেক দিতে ব্যবহার করুন । যদি আপনার কাছে ল্যাভেন্ডার থাকে তাহলে সেটাও মোজার মধ্যে ঢুকিয়ে দিন আর বাড়িতেই অ্যারোমা থেরাপির সুবিধা নিন ।
২। বাড়িতেই ক্যাপসেইসিন ক্রিম বানান-
এটা একটা বহু পুরানো ঘরোয়া পদ্ধতি যা ব্যাথার অনুভব মাথায় পৌঁছানোর আগেই রোধ করে । যখন আমরা ব্যাথা কমানোর ওষুধ খাই, ব্যাথা পুরোপুরি সেরে যায় কারণ সেই ওষুধ সাহায্য করে ব্যাথা মাথা অবধি না পৌঁছতে । এই ক্যাপসাইসিন ক্রিম বানাতে ২ থেকে ৩টি লাল লঙ্কা আর ২-৩ চামচ অলিভ এর তেল একসাথে বেঁটে নিয়ে মেশাতে হবে ক্রিম এর মতো । এই ক্রিম গাঁটে লাগান , এটা প্রথমে খুব জ্বালার সৃষ্টি করবে কিন্তু এক সপ্তাহ পর থেকে একদম স্বাভাবিক মনে হবে , এই পদ্ধতি দিনে ৪-৫ বার লাগালে ব্যাথা থেকে আরাম পেতে পারেন ।
৩। অপরিষ্কার বাসন ভালো করে পরিষ্কার করুন-
এটা শুনতে খুব আজব লাগলেও আপনার হাতের আর আঙ্গুলের গাঁট এর ব্যাথার জন্য এই পদ্ধতি খুবই কার্যকরী । যখন আপনি গরম জল এ আপনার হাত দেন বাসন পরিষ্কার করতে , তখন আপনার গাঁট আর মাংস পেশী আরাম পায় । এবং যখন আপনি বাসন মাজেন , তখন আপনার হাত এবং আঙ্গুলগুলি বাসন পরিষ্কার করার জন্যি নড়াচড়া করতে গিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে ।
৪। গরম আর ঠাণ্ডা ভাপ-
এর জন্য আপনাকে দুটো পাত্র নিতে হবে , একটায় ঠাণ্ডা বরফ জল , অন্যটায় গরম জল । গরম জল যেন খুব গরম না হয় , আপনি সহ্য করতে পারেন এরকম হয় । ঠাণ্ডা জল দিয়ে শুরু করুন , আক্রান্ত জায়গা টা ঠাণ্ডা জলে চুবিয়ে রাখুন ১ মিনিটের জন্য তারপর আবার গরম জলে ৩০ সেকেন্ড । এই ভাবে ১৫ মিনিট করুন । এতে ফোলা ভাব আর আড়ষ্টতা কমবে ।
৫। ক্যামোমিল চায়ের ভাপ-
ক্যামোমিল চায়ের ব্যাথা কমানোর বৈশিষ্ট্য খুব কার্যকারী গাঁটের ব্যথা থেকে আরাম দিতে । ৪ টে ক্যামোমিল টি ব্যাগ নিন , আর ফুটন্ত গরম জলে ২০ মিনিট চুবিয়ে রাখুন আর কাপের মুখ টা ঢেকে দিন । এবার টি ব্যাগ গুলো চিপে নিন । একটা পরিষ্কার কাপড় নিন আর ক্যামোমিল চায়ে ভিজিয়ে সেটা আক্রন্ত জায়গার ওপর রেখে ভাপ দিন ।
যদি এই প্রতিকার গুলো কাজে না দেয় তাহলে চিকিৎসক এর এর সাথে যোগাযোগ করুন।
Image Source: instructable,austin pace,reader digest,medium, medical news today

