Search

Home / Uncategorized / মাইগ্রেনের কারণ, লক্ষন আর কি করে নিয়ন্ত্রন করবেন

মাইগ্রেনের কারণ, লক্ষন আর কি করে নিয়ন্ত্রন করবেন

Tanuja Acharya | সেপ্টেম্বর 24, 2018

বর্তমানের এই ব্যস্ততাময় জীবনে সকলেই কম বেশি মানসিক বা শারীরিক ভাবে চাপগ্রস্ত থাকে , এই চাপের ফলে হয়ে থাকা অন্য অনেক অসুখের সাথে আরো একটি অসুখ খুব দেখা যায় , সেটি হল মাইগ্রেন মাইগ্রেন এক প্রকার তীব্র  মাথা ব্যাথা যা পরিবেশগত কারণে বা বংশ এ এই রোগ হওয়ার ইতিহাস থাকলে হয়ে থাকে মাইগ্রেন এর ব্যাথা প্রায় অর্ধেক মাথা নিয়ে হয় আর  এর ব্যাথা প্রায় ঘণ্টা খানেক  থেকে শুরু করে কিছুদিন পর্যন্ত থাকে। সেই সময় কোনও রকম শারীরিক কাজ কর্ম এই ব্যাথাকে আরও তীব্র করে তোলে এই মাইগ্রেন এর ব্যাথা সকলের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যাদের কাজেরসূত্রে বাইরে যেতে হয় তাদের জন্য খুব কষ্টদায়ক প্রাথমিক পর্যায় যখন ব্যাথা মাঝে মাঝে শুরু হতে থাকে তখন এর চিকিৎসা শুরু করলে এই মাইগ্রেনের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়

 

মাইগ্রেনের লক্ষন

আগে থেকে মাইগ্রেনের ব্যাথা কে নিয়ন্ত্রন করার জন্য , মাইগ্রেণের লক্ষন গুলো চিহ্নিত করা উচিত এই লক্ষন গুলো কম থেকে শুরু হয়ে প্রচণ্ড মাথা ব্যথার আকৃতি নেয়

যদিও সব মাইগ্রেন আগে থেকে বোঝা যায় না তাও কিছু সাধারণ লক্ষন আছে যেমন:

  • মাঝারি থেকে চরম ব্যাথা, সাধারণত আপনার মাথার এক পাশে হয় কিন্তু তার রেশ মাথার অন্য পাশে ও অনুভূত হয় ।
  • কোনও রকম শারীরিক পরিশ্রম করলে মাথা ব্যাথা সৃষ্টি হয়
  • মাথা ব্যাথা কালীন কোনও রকম আওয়াজ আর গন্ধ সহ্য হয়না
  • শরীর খারাপ লাগা , বমি পাওয়া , আর প্রতিদিনকার করণীয় বিভিন্ন  কাজ করতে অনীহা লাগে । এই ব্যাথা থেকে আরাম পেতে গেলে অন্ধকার ঘরে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকা আবশ্যক

কিছু মানুষ অন্য লক্ষণও অনুভব করেন যেমন , পেটে ব্যাথা , ডাইরিয়া , তাৎক্ষণিক শরীরের তাপমাত্রা বদলে যাওয়া বা প্রচুর ঘাম হওয়া

 

মাইগ্রেন এর কারণ

যদিও মাইগ্রেনের তেমন কোনও কারণ চিকিৎসকেরা খুজে পাননি , বংশগত ভাবে বা খাদ্য অভ্যাসে কিছু অনিয়মের কারণে মাইগ্রেন হতে পারে

 

খাদ্য তালিকাগত কারণ

কিছু  খাদ্য প্রক্রিয়াগত খাবার , চীজ , মদ ,অ্যাডিটিভ যেমন নাইট্রেট যা মাইগ্রেনের ব্যাথা কে তীব্র  করে তোলে। মনোসডিয়াম গ্লুটামেট যা মাইগ্রেনের জন্য ৩০ শতাংশ দায়ী

 

স্বাস্থ্য আর প্রাকৃতিক কারণ

ক্লান্তি আর ঘুমানোর অভ্যাস কিছুটা হলেও মাইগ্রেনের জন্য দায়ী, আকস্মিক আবহাওয়া বদলে যাওয়া, সঠিক ভাবে খাবার না খাওয়া, এই সব মাইগ্রেনের হওয়ার  কারণ।

 

শারীরবৃত্তীয় কারণগুলি

মাইগ্রেন হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ হল , অত্যাধিক মানসিক চাপ , খিদে, আর অবসাদ।  এই মানসিক চাপ এর  দরুন ৫০% থেকে ৮০%  মানুষ মাইগ্রেনের শিকার হচ্ছে মাইগ্রেন কিছুটা পোস্ট ট্রামাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এর (post-traumatic stress disorder (PTSD) মতো। মহিলাদের মধ্যে হরমোন পরিবর্তনের সময় যেমন অন্তসত্ত্বা কালীন , ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার আগে বা  পরে , এই সব কারণগুলিও মাইগ্রেন এর জন্য দায়ী

 

মাইগ্রেন কি করে নিয়ন্ত্রণ করবেন

মাইগ্রেনের ব্যাথা নিয়ন্ত্রণ বা এর চিকিৎসা সোজা বা কঠিন হবে কিনা তা নির্ভর করে মাথা ব্যাথার তীব্রতার উপর  

  • ভালো করে ঘুমান
  • নিজের জীবন থেকে অযাচিত চিন্তা ভাবনা কমান
  • বেশি করে জল খান
  • নিজেকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • সেই সব খাবার থেকে দূরে থাকুন যাতে গ্লুটেন (যেমন আটা , ময়দা ) আর  MSGs আছে। অ্যাস্প্রিন এর সাথে ক্যাফাইন (যেমন কফি) নিন যা মাথা ব্যাথা কম করতে অথবা একদম কমিয়ে দিতে সাহায্য করে

যদি এই জীবনধারার পরিবর্তন আপনার মাইগ্রেন কম করতে সফল না হয় তাহলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । চিকিৎসক রোগী কে দেখে সঠিক ওষুধ দেন যাতে মাইগ্রেন সহজে না হয় আর ব্যাথা সহ অন্যান্য উপসর্গ থেকে অনেকটা পরিত্রাণ পাওয়া যায় । ব্যাথা কমানোর ওষুধ তাড়াতাড়ি নেবেন যখন বুঝবেন মাইগ্রেন এর ব্যাথা শুরু হতে চলেছে কারণ একবার শুরু হয়ে গেলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে ।

কিছু ক্ষেত্রে যখন মাইগ্রেনের ব্যাথা তীব্র আকার নেয় তখন Over-the-counter Penkillers (OTC) বা ওভার দি কাউন্টার নামে ব্যাথা কমানোর ওষুধ খুব কার্যকারী মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতে , সেগুলো হলো :

  • Naproxen ( নাপ্রক্সেন )
  • Ibuprofen ( আইবুপ্রোফেন )
  • Acetaminophen(অ্যাসিটামিনফেন)

প্রাথমিক পর্যায়ে মাইগ্রেনের নির্ণয়ে, চিকিৎসক আরও কিছু পরীক্ষা করতে দেয় যা থেকে বোঝা যায় এই ব্যাথা শুধু কি মাইগ্রেনের কারণে হচ্ছে না অন্য কোনো কারণে । এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে আছে-ইলেক্ট্রোএনসেফ্যালোগ্রাফি বা electroencephalography (EEG), CT Scans ( সিটি স্ক্যান ) , আর MRI Scans (এম আর আই স্ক্যান ) ।

কোনও রকম ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসক এর পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক ।

 

Image Source: Pixabay

Tanuja Acharya

BLOG TAGS

Uncategorized

COMMENTS (0)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।