Search

Home / Uncategorized / ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ আর লক্ষণ

ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ আর লক্ষণ

Tanuja Acharya | সেপ্টেম্বর 25, 2018

সাধারণত ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব মানুষের শরীরে তখন বৃদ্ধি পায় যখন কিডনি সেটা পরিষ্কার করতে অক্ষম হয় । ইউরিক অ্যাসিড রক্তে মিশে যায় আর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে । যখন সেটা কিডনি দিয়ে যায় তখন কিডনির কাজ হলো রক্ত থেকে ইউরিক অ্যাসিড কে সরিয়ে দেওয়া যাতে ইউরিক অ্যাসিড মল বা মুত্র দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে ।

ইউরিক অ্যাসিড আসলে একটা বর্জ্য পদার্থ । এটা তখন হয় যখন শরীরে প্রাকৃতিক পিউরিন এ ভাঙ্গন ধরে কিছু খাবারের ফলে আর সেই সময় টিস্যু তে ভাঙ্গন ধরার ফলে মৃত কোষগুলি শরীরের থেকে দূরে সরে যায় ।

যখন ইউরিক অ্যাসিড কে কিডনি শরীর থেকে পুরোপুরি বের করতে পারেনা তখন সেটা শরীরে ছড়িয়ে পরে আর শরীরের পি এইচ ভারসাম্য কে নষ্ট করে অ্যাসিডে পরিণত করে যার ফলে কিডনিতে পাথর , গাউট আর্থারাইটিস , আর গাঁটের ব্যাথা সৃষ্টি হয় । এটা খুব সাংঘাতিক শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে যেমন – উচ্চরক্তচাপ, কিডনি অকেজো আর হৃদ রোগ । উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড বা হাইপারইউরেকেমিয়া বলা হয় যখন অ্যাসিডের পরিমান মহিলাদের শরীরে 6 mg/dL আর পুরষদের শরীরে 7 mg/dL এর বেশি পাওয়া যায় ।

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার কিছু কারণ

কিছু সময় যদিও ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার পিছনে কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে যেমন কেমোথেরাপি , তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত  কারণগুলি ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে ।

  • মোটা হওয়া
  • বংশগত কারণ
  • ডায়বেটিস
  • সোরিয়াসিস
  • উচ্চরক্তচাপ
  • কিডনির রোগ
  • হাইপোথাইরয়েডিজম
  • হৃদ রোগের ওষুধ
  • ডিউরেতিক্স ধরণের ওষুধ নেওয়া উচ্চ রক্তচাপ এর জন্য
  • হজম ঠিকঠাক না হলে
  • সিসা বা কীটনাশক সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকলে
  • অত্যাধিক মাত্রায় শারীরিক পরিশ্রম
  • ভিটামিন বি ৩ বেড়ে যাওয়া বা নিয়াসিন

  • অত্যাধিক পরিমানে মদ্যপান করা , বেশি মাত্রায় লাল ওয়াইন খাওয়া
  • কিডনির ঠিক মতো কাজ না করা
  • কিছু এমন ওষুধ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কে দুর্বল করে
  • টিউমার লাইসিস সিন্ড্রোম , এমন একটি অবস্থা যেখানে মৃত কোষ গুলি তাড়াতাড়ি রক্তে ছড়িয়ে পরে , পিউরিন যুক্ত খাবারের মাধ্যমে , যেমন শুষ্ক কড়াইশুঁটি , বিন্স , মাশরুম , সার্ডিন এবং মাংস ইত্যাদি

 

ইউরিক অ্যাসিড এর কিছু লক্ষন

ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণগুলি ৩ টি ভাগে ভাগ করা আছে যেমন – গাঁটের এর লক্ষন , কিডনির লক্ষন আর চামড়ার লক্ষন ।

১। গাঁটের লক্ষন

যখন শরীরে প্রচুর পরিমানে ইউরিক অ্যাসিড হয়ে যায় ,  সেটি ক্রিস্টালাইজ হয় এবং জমা হতে থাকে গাঁটে যার ফলে ব্যাথা , জ্বালা , লাল ভাব সৃষ্টি হয় । কিছু মানুষ অনুভব করেন তাদের গাঁটের কাছটা গরম হয়ে গেছে । এই অবস্থাকে বলা হয় গাউট আর্থারাইটিস । গাঁটে বাত প্রথমে ক্ষতি করে বুড়ো আঙুল কে , এর থেকে ছড়িয়ে পরে গোড়ালি তে , হাঁটুতে , আঙ্গুলে , কব্জিতে , আর কনুই তে। যদি এর সঠিক চিকিৎসা না হয় এই তাহলে গাঁটে বাত আপনার গাঁট গুলিকে সম্পূর্ণ রুপে ক্ষতি করে দেবে ।

 

২। কিডনির লক্ষন

যখন ইউরিক অ্যাসিড ধীরে ধীরে ক্রিস্টালাইজ হয়ে স্থান নেয় মুত্রনালিতে ,  তখন সেটা কিডনির পাথরে পরিবর্তন হয় । এটা বেশি হয় পুরুষদের , কিডনির পাথর ব্যাথা সৃষ্টি করে যা সামনে থেকে পেছনে ঘোরা ফেরা করে , বমি ভাব , জ্বর , কাঁপুনি , কুঁচকির জায়গায় ব্যাথা , আর মুত্র তে রক্ত সৃষ্টি করে ।

 

৩। চামড়ার লক্ষন

যখন শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হয়ে থাকে আর গাউট এই ব্যাথা অনেকদিন ধরে তখন ইউরিক অ্যাসিড  ক্রিস্টালাইজ হতে হতে একসময় জমা হয়ে একটা পিণ্ড সৃষ্টি করে চামড়ার ভিতরে । এই মাংসের পিণ্ড গুলো কে বলা হয় টফি । এটা ব্যাথা দায়ক নয়, এটা দেখা যায় কনুইতে , হাতে , আঙ্গুলে আর গোড়ালি তে ।

যদিও হাইপারউরিকেমিয়া কে দমন করা যায় একটু জীবন যাপনের ধারা বদলালে যেমন –  খাদ্য পরিবর্তন , দিনে ২ লিটার জল খাওয়া , মদ্যপান কম করা , চিকিৎসক দেখিয়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করা , আর দ্রুত এর চিকিৎসা করা ।

 

Image sources: Wikimedia commons, Flickr and Pixabay

Tanuja Acharya

BLOG TAGS

Uncategorized

COMMENTS (0)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।