Search

Home / Women Health Care Tips in Bengali / গল ব্লাডার এর পাথর অথবা গলস্টোনের লক্ষণ এবং চিকিৎসা

গল ব্লাডার এর পাথর অথবা গলস্টোনের লক্ষণ এবং চিকিৎসা

Tanuja Acharya | আগস্ট 1, 2018

সাম্প্রতিক কালে পাথর হওয়া একটা সাধারণ ব্যাপার কারোর পাথর কিডনি তে হয় আর কারোর গল ব্লাডার অথবা পিত্তকোষে এ। অনেক মানুষ এই পাথর কে এড়িয়ে যায় আর খুব সাধারণ ভাবে ব্যাপারটা নেয় তবে আমরা আপনাকে তাদের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার পরামর্শ দেব, কারণ গল ব্লাডার এর পাথর থেকে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা থাকে

যখন লেস্টেরল পুরোপুরি গল ব্লাডারে দ্রবীভূত হতে পারেনা তখন সেটা পাথর অথবা গল স্টোনে এ পরিণত হয়। ছোট পাথরগুলো সহজেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায় কিন্তু বড় আকারের পাথরগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক

গল ব্লাডারের পাথর হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে ডাক্তাররা বিশ্বাস করেন যে পাথরগুলি নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্যে হতে পারে

 

উচ্চ লেস্টেরল-

সাধারণত, উচ্চ কলেস্টেরল আমাদের শরীরের অনেক জটিলতা তৈরি করে এবং এটি থেকে কলেস্টেরিস হতে পারে যা প্রাথমিকভাবে পিত্ত রসের প্রবাহকে বাধাপ্রাপ্ত করেএই রোগটি হাইড্রোকোলেস্টেরলিয়ামিয়া (রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল) এর সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় যা অবশেষে গল স্টোনে  গঠন হতে পারে

 

উচ্চ বিলিরুবিন উৎপাদন-

বিলিরুবিন হল একটি রাসায়নিক যা তখন আমাদের শরীরে সৃষ্টি হয় যখন আমাদের লিভার বা যকৃত লোহিত রক্ত ​​কণিকা কে ধ্বংস করেকিছু পরিস্থিতিতে যেমন আমাদের লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা রক্ত সংক্রামক রোগ হয় ,সেই সময় আমাদের লিভার অনেক বিলিরুবিন উৎপাদন করে,দরকার এর চেয়ে বেশি, যা বেশি দিন হলে পাথরে এ পরিণীত হয় ।

 

গল ব্লাডর পুরোপুরি খালি না হওয়া-

যখন গল ব্লাডার পুরোপুরি খালি হয় না তখন পিত্তরস ঘনীভূত হয়, আর পরিণত হয় গল স্টোনে কখনও বা আমাদের পেটে পাথর থাকে কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনা যতক্ষণ না সেটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় আর ব্যাথা সৃষ্টি করে ।

 

এখানে কিছু লক্ষন আছে গল ব্লাডারের পাথর হওয়ার-

১। আকস্মিক আর দ্রুত ব্যাথা যা তলপেটের ওপরেদিকে হয় ।

২। প্রচণ্ড ব্যাথা পেটের আর বুকের মাঝ খানে ।

৩। পিঠে ব্যাথা

৪। ডান দিকের কাধে ব্যাথা

৫। বমি করা

 

কিছু পরীক্ষা যা গল ব্লাডার এর পাথর অথবা গলস্টোন নির্ধারণ করার জন্য করা উচিত

১। আল্ট্রাসাউন্ড

একটি আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান আপনার শরীরের ভিতর থেকে জীবন্ত ছবিগুলো গ্রহণের জন্য উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে যা গল ব্লাডারের পাথরের সঠিক অবস্থান প্রকাশ করতে পারে, এটি গল স্টোনের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে সাধারণ পরীক্ষা।

 

২। পেটে সিটি স্ক্যান

সিটি স্ক্যান সেই সব ছোট পাথর গুলো কে দেখার জন্য যা আল্ট্রাসাউন্ড এ ধরা পরেনা এই স্ক্যান এর পর ডাক্তার চিকিৎসা শুরু করে ।

 

৩। রক্ত পরীক্ষা

রক্ত পরীক্ষার দ্বারা বোঝা যায় পাথরের দ্বারা কোনও সংক্রামন হলে একটা সম্পূর্ণ রক্ত গণনা বা সি বি সি পরীক্ষা সাহায্য করে কোন জীবাণু যদি সাদা রক্ত কোষে থাকে সেটা খুজে বার করতে। এর জীবাণু গুলো দ্রুত সারানো উচিত এই সব জীবাণু গুলো অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা করা হয় ।

 

গল ব্লাডারের পাথর  অথবা গলস্টোন চিকিৎসা

১। গল স্টোন ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকাইস্টেকোটমি

যদি আপনার গল ব্লাডার এর গঠন খুব দ্রুত হয় তাহলে ডাক্তার আপনাকে বলবে অস্ত্রপ্রচার এর দ্বারা সেটা নির্মূল করতে, একবার সেটা নির্মূল হলে পিত্ত সরাসরি ভাসতে থাকে লিভার বা যকৃত থেকে ক্ষুদ্রান্ত বা স্মল ইন্টেস্টাইনে। মানুষ এর সাধারণ ভাবে কোনও অসুবিধা হয় না কারন আমাদের লিভার  অনেক পিত্তরস প্রস্তুত করে, অস্ত্রপ্রচারের পর ডাক্তার পরামর্শ দেয় কম চর্বি যুক্ত খাবার খেতে ।

 

২। ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা

গল ব্লাডার স্টোনের চিকিৎসা ওষুধের দ্বারা হয় । Actigall (ursodiol) শ্রেণীর ওষুধ সাধারণত ডাক্তার রা খাবার জন্য দেয় পাথরের আকার আর আয়তনের জন্য পুরোপুরি নির্মূল হতে কখনও কয়েক মাস বা বছর লাগে যতক্ষণ না পাথর পুরোপুরি গলে গিয়ে খুব সহজে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে।

 

 

Tanuja Acharya

COMMENTS (0)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।