Search

Home / Home Remedies in Bengali / কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা রোধ করার

কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা রোধ করার

Tanuja Acharya | আগস্ট 17, 2018

প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা সাম্প্রতিক কালে পুরুষ মহিলা দুজনের কাছেই এক বড় সমস্যা , বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে এই সমস্যায় অনেকেই ভোগেন । এটা খুব পীড়াদায়ক সমস্যা অনেকের কাছে , তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল এটা মানুষ কে লোক সমাজে বিপর্যস্ত করে তোলে । এটা মূত্রাশয় বা মুত্রনালী সংক্রান্ত অসুখের কোনো লক্ষণ হতে পারে কখনো কখনো , তাই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত । চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির সাহায্যে প্রাথমিক ভাবে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রনের অক্ষমতাকে সারিয়ে তোলা যায় ।

 

১। বয়স্ক মানুষেরা  বেশি প্রস্রাবে অসংযম বোধ করেন

অনেক সময়ে বিভিন্ন রোগের জন্য এই নিয়ন্ত্রণের সমস্যা হঠাৎ করে অল্প দিনের জন্য দেখা দেয় , সেইসব রোগের চিকিৎসার সাথে সাথে এই সমস্যা চলে যায় । তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে । বিভিন্ন কারণ হতে পারে এই সমস্যার, যেমন মুত্রস্থলী দুর্বল হয়ে যাওয়া ,মূত্রস্থলীর চারপাশের পেশী গুলো কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া , পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থির অস্ত্রোপচার এর পর , মহিলাদের স্থায়ীভাবে ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার ফলে , অতিরিক্ত মানসিক চাপ অথবা উত্তেজনার ফলে ।

 

২। কেজেল অনুশীলন

কেজেল এমনই একটা অনুশীলন যা পেল্ভিক বা শ্রোণী কে শক্ত করে আর খুব উপকারি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে । মানুষের উদরের নীচের অংশটিই হচ্ছে পেলভিক বা শ্রোণীচক্র। মহিলাদের শ্রোণী অঞ্চলে যে অঙ্গগুলো থাকে তা হল- অন্ত্র, মুত্রাশয়, জরায়ু ও ডিম্বাশয়। এই অঙ্গগুলোর কোনটির সমস্যার কারণেই শ্রোণী অঞ্চলে সমস্যা হতে পারে। কেজেল অনুশীলন খুব সহজ আর এর মাত্র ৩ টে ধাপ আছে । যেমন প্রস্রাব করার সময় প্রস্রাবের বেগ কে বন্ধ করে দিন মাঝপথে , কয়েক সেকেন্ড আটকে রাখুন তারপর আবার বার করে দিন , যে মাংস পেশী এই প্রস্রাব নিয়ন্ত্রন করছিল তাকেই কিছুক্ষণ ধরে আবার ছেড়ে দিতে হবে প্রস্রাব করা কালীন । এই প্রতিক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করলে পেল্ভিক এর মাংস শক্ত হবে আর প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বাড়বে ।

 

৩। যোগাসন

যোগাসন পেল্ভিক এর মাংস শক্ত করে আর সমান উপকারী কেজেল অনুশীলনের মতো । যোগাসনের দ্বারা চিন্তা এবং উদ্বিগ্নতা কম হয় যা মূলত প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার জন্য দায়ী। কিছু যোগাসন আছে যেমন অশ্বিনী মুদ্রা যা প্রস্রাবের থলি কে শক্ত করে , বজ্রাসনে বসে মুলা বন্ধ আসন অভ্যাস করলে শরীরের নীচের অংশ মজবুত হয় ।

 

৪। ওজন কমানো

গবেষণায় বলছে শরীরের ওজন কম হলে তা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে , কম ওজন পেল্ভিক পেশী  কে সাহায্য করে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে মূলত মহিলাদের ক্ষেত্রে ।

 

৫। ভারি জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন

ভারি জিনিস তোলা যেমন জলের বালতি ,  পেল্ভিক এর জায়গাতে অনেক জোর দেয় ফলে অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাবের উপসর্গ দেখা দিতে পারে । তাই ভারি জিনিস তোলা এড়িয়ে যাওয়া উচিত ।

 

৬। আপনার প্রস্রাব থলি কে প্রশিক্ষণ দিন

এটা দেখা গেছে একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর প্রস্রাব করতে গেলে বার বার প্রস্রাবের অসংযম কে নিয়ন্ত্রন করা যায় । এটা অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে ।

 

৭। অ্যাকুপ্রেসার

অ্যাকুপ্রেসার খুব ভালো একটা বিকল্প পদ্ধতি যে কোনও রোগের জন্য আর এটা গবেষণার দ্বারা প্রমানিত যে এটা প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী । এর প্রেসার পয়েন্ট আমাদের মধ্য আঙুল এর ওপরের আর মধ্যখানের গাঁটের মাঝখানে , এই পয়েন্ট টা কে বলে SP8 । খুব সহজ ভাবে পয়েন্ট এ চাপ দিন বা একটা মেথি দানা পয়েন্ট এ রেখে ভালো করে পেপার টেপ দিয়ে বেঁধে রাখুন । এর প্রতিনিয়ত চাপ যা এই মেথি দানা থেকে হচ্ছে তা এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে ।

ভিটামিন ডি আর ম্যাগ্নেসিয়ামযুক্ত খাবার খুব উপকারী প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য , এতে মাংস পেশী শিথিল হয় আর পেশী কে শক্ত করে তোলে । যোগাসন আর অ্যাকুপ্রেসার কোনও বিশেষজ্ঞর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে করবেন ভালো ফল পাওয়ার জন্য , নিজে থেকে প্রশিক্ষণ ছাড়া করার চেষ্টা করবেন না , তাতে ফল বিপরীত হতে পারে।

 

Image Sources: Unsplash.com

Tanuja Acharya

COMMENTS (0)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।