Search

Home / Uncategorized / কি করে চোখের ছানি পরা প্রতিরোধ করবেন ?

কি করে চোখের ছানি পরা প্রতিরোধ করবেন ?

Tanuja Acharya | নভেম্বর 1, 2018

ছানি হল খুব ঘন , ফ‍্যাকাশে এলাকা যা চোখের পর্দায় ঘনীভূত হয় । ছানি তখনই হয় যখন চোখের মধ্যে থাকা প্রোটিন জমাট বাধে , তাই এটা বাঁধা সৃষ্টি করে চোখের পর্দায় স্বচ্ছ চিত্র দেখাতে । যেমন আলো ঠিক মতো চোখের পর্দা দিয়ে বের হতে পারে না এর ফলে দৃষ্টি তে প্রভাব ফেলে ।

 

ছানি হওয়ার উদাহরণ

ছানি খুব ধীর গতিতে বিকাশ পায় , আর আগেও বলা হয়েছে যে ছানি চোখের দৃষ্টি তে হস্তক্ষেপ করে ।অনেক রকমের ছানি আছে যা অনেক রকম কারনে হয় যেমন :

বয়েস কালীন ছানি পরা আসলে বয়েস কালীন সমস্যা , বয়েস বেড়ে যাওয়ার সাথে ছানি সৃষ্টি হয় । অনেকের দু চোখেই ছানি পরে কিন্তু ছানি এক সাথে এক সময়ে দু চোখে খুব কম হয় ।

জন্মগত – এই ধরনের ছানি তখন হয় যখন বাচ্চা ছানি নিয়ে জন্ম নেয় । জন্মগত ছানি পরার কারন  হলো গর্ভবতী থাকাকালীন মায়ের কোনো সংক্রমণ , আঘাত , অথবা অপুষ্টি । তার মানে ছানি ছোট বেলায় ও চোখে পরতে পারে ।  

সেকেন্ডারি – সেকেন্ডারি ছানি পরে কিছু রোগের চিকিৎসার কারনে যেমন ডায়েবেটিস । এই ছানি পরা আরও কিছু কারনে হয় যেমন কেউ যদি বিষাক্ত পদার্থের কাছে থাকে,  আলট্রাভায়োলেট রে , বিকিরণ বা কিছু ওষুধের দ্বারা যেমন মূত্রবর্ধক (diuretics ) আর কোরটিকসস্টেরইড (corticosteroids ) ।

আঘাত্মুলক – নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই ধরনের ছানি পরে চোখে আঘাত লাগলে।

কিছু সাধারণ ছানি পরার কারণ নিচে দেওয়া আছে:

  • ঝাপসা দৃষ্টি
  • রাতে কম দেখতে পাওয়া  
  • ঝাপসা রঙ দেখা
  • আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়া
  • হালকা পার্শ্ববর্তী আলো
  • দুটো করে দেখা আক্রান্ত চোখে
  • বার বার চশমা বদলানো

নানা ধরনের ছানির ব্যাপারে আমরা জানলাম , সাথে তাদের কারণ আর সাধারণ লক্ষণ  ও জানলাম , এবার আলোচনায় আসি কি ভাবে চোখের ছানি পরা প্রতিরোধ করবেন ।

 

১। সঠিক খাবার খান

আপনি যা যা খেয়ে থাকেন তার গুনাগুন আপনার মুখে ফুটে ওঠে । যে সব খাবারে উচ্চ পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট আছে , যেমন ভিটামিন সি আর ভিটামিন ই আপনার খাবারে রাখুন । সাইট্রাস ফল যেমন লেবু , টমেটো , কিউই , ব্রকলি , স্ট্রবেরি,  আর আলু যাতে আছে উচ্চ পরিমানে ভিটামিন সি । সূর্যমুখী তেল , আলমণ্ড , চিনাবাদাম , পালং , আর ব্রকলি তে আছে ভিটামিন ই ।

লিউটিন (Lutein ) আর জিয়াজেন্থিন (zeaxanthin) এই দুটো ভিটামিন যা আপনার চোখ রক্ষা করে । ডিম আর সবুজ শাকে আছে এই ভিটামিন ।

 

২। ধূমপান ত্যাগ করুন

আপনার ত্বক এবং আপনার শরীরের উপর ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও, ধূমপান আপনার চোখের উপর একটি প্রতিকূল প্রভাব হতে পারে।
ধূমপান আপনার চোখে কিছু স্বাধীন মৌল সৃষ্টি করে । এই স্বাধীন মৌল গুলো হল কেমিক্যাল পদার্থ যা আপনার কোষ কে আঘাত করে আর আপনার শরীরে থাকা  ভালো কেমিক্যাল গুলো মেরে ফেলে । এই সব স্বাধীন মৌল উৎপাদন ছাড়াও ধূমপান অনেক বেশি মত্রায় বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন করে যা ছানি পড়তে সাহায্য করে ।

 

৩। সান গ্লাস পড়ুন

গবেষণায় বলছে ইউ ভি আলো বা অতি বেগুনি রশ্মি চোখে অবস্থিত প্রোটিন কে  ক্ষতিগ্রস্ত করে যা চোখের লেন্স এ অবস্থিত । তাই তারা বলে চোখ রক্ষা করতে সান গ্লাস পড়তে যা এই আলো কে চোখে পৌছাতে আটকায় । যখন সান গ্লাস কিনবেন দেখবেন এই গুলো আছে কিনা ;

  • ৯৯% -১০০ % উ ভি এ আর উ ভি বি রে আটকায় কিনা
  • স্ক্রিন আউট ৭৫%- ৯০% দৃশ্যমান আলো
  • আপনার মুখের সাথে মানাসই আর ফ্রেম যা আপনার চোখের কাছে থাকে।
  • ছাই রঙের আভা যা আপনাকে গাড়ি চালানোর সময় কাজে দেবে

 

৪। রক্তের চাপ লক্ষ্য রাখবেন

সেকেন্ডারি ছানি পরা বিশেষত রোগের কারনে হয় যেমন ডায়বেটিস ।  ডায়বেটিস রোগীদের ছানি পরা খুব দ্রুত গতিতে হয় সাধারণ মানুষের চেয়ে । যদি আপনার রক্তের চাপ খুব বেশি থাকে অনেক দিন ধরে তাহলে আপনার চোখের পর্দা বা লেন্স ফুলে উঠবে । এই লেন্স আপনার রক্তের শর্করা পরিবর্তন করে  সর্বিটলে । যখন সর্বিটল পুঞ্জিভুত হয় চোখে যার জন্য আপনি চোখে কম দেখেন এর ফলে চোখে ছানি পরে ।

 

৫। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করুন

আপনার চোখের ডাক্তার আপনার চোখের যে কোনও সমস্যা ধরে ফেলবে । তাই বলা হয়ে থাকে যে যদি আপনার বয়েস ৪০- ৬৪ বছর হয় তাহলে আপনি নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করুন প্রত্যেক ২-৪ বছর অন্তর । যদি আপনার বয়েস ৬৫ বছর হয় , তাহলে চোখের পরীক্ষা প্রত্যেক ১- ২ বছর অন্তর করুন । যদি আপনার চোখের সংক্রমণ এর  খুব বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনার চোখের ডাক্তার আপনাকে নিয়মিত চোখ দেখাতে বলবেন ।

এই পদ্ধতি গুলো আপনার চোখে ছানি পরা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে । এই ছানি পরা বিষয়ে বিশদ জানতে বা বুঝতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ  এর সাথে আলোচনা করুন ।

Tanuja Acharya

BLOG TAGS

Uncategorized

COMMENTS (0)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।