Home / Uncategorized / কি করে চোখের ছানি পরা প্রতিরোধ করবেন ?
ছানি হল খুব ঘন , ফ্যাকাশে এলাকা যা চোখের পর্দায় ঘনীভূত হয় । ছানি তখনই হয় যখন চোখের মধ্যে থাকা প্রোটিন জমাট বাধে , তাই এটা বাঁধা সৃষ্টি করে চোখের পর্দায় স্বচ্ছ চিত্র দেখাতে । যেমন আলো ঠিক মতো চোখের পর্দা দিয়ে বের হতে পারে না এর ফলে দৃষ্টি তে প্রভাব ফেলে ।
ছানি হওয়ার উদাহরণ
ছানি খুব ধীর গতিতে বিকাশ পায় , আর আগেও বলা হয়েছে যে ছানি চোখের দৃষ্টি তে হস্তক্ষেপ করে ।অনেক রকমের ছানি আছে যা অনেক রকম কারনে হয় যেমন :
বয়েস কালীন – ছানি পরা আসলে বয়েস কালীন সমস্যা , বয়েস বেড়ে যাওয়ার সাথে ছানি সৃষ্টি হয় । অনেকের দু চোখেই ছানি পরে কিন্তু ছানি এক সাথে এক সময়ে দু চোখে খুব কম হয় ।
জন্মগত – এই ধরনের ছানি তখন হয় যখন বাচ্চা ছানি নিয়ে জন্ম নেয় । জন্মগত ছানি পরার কারন হলো গর্ভবতী থাকাকালীন মায়ের কোনো সংক্রমণ , আঘাত , অথবা অপুষ্টি । তার মানে ছানি ছোট বেলায় ও চোখে পরতে পারে ।
সেকেন্ডারি – সেকেন্ডারি ছানি পরে কিছু রোগের চিকিৎসার কারনে যেমন ডায়েবেটিস । এই ছানি পরা আরও কিছু কারনে হয় যেমন কেউ যদি বিষাক্ত পদার্থের কাছে থাকে, আলট্রাভায়োলেট রে , বিকিরণ বা কিছু ওষুধের দ্বারা যেমন মূত্রবর্ধক (diuretics ) আর কোরটিকসস্টেরইড (corticosteroids ) ।
আঘাত্মুলক – নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই ধরনের ছানি পরে চোখে আঘাত লাগলে।
কিছু সাধারণ ছানি পরার কারণ নিচে দেওয়া আছে:
নানা ধরনের ছানির ব্যাপারে আমরা জানলাম , সাথে তাদের কারণ আর সাধারণ লক্ষণ ও জানলাম , এবার আলোচনায় আসি কি ভাবে চোখের ছানি পরা প্রতিরোধ করবেন ।
Table of Contents
আপনি যা যা খেয়ে থাকেন তার গুনাগুন আপনার মুখে ফুটে ওঠে । যে সব খাবারে উচ্চ পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট আছে , যেমন ভিটামিন সি আর ভিটামিন ই আপনার খাবারে রাখুন । সাইট্রাস ফল যেমন লেবু , টমেটো , কিউই , ব্রকলি , স্ট্রবেরি, আর আলু যাতে আছে উচ্চ পরিমানে ভিটামিন সি । সূর্যমুখী তেল , আলমণ্ড , চিনাবাদাম , পালং , আর ব্রকলি তে আছে ভিটামিন ই ।
লিউটিন (Lutein ) আর জিয়াজেন্থিন (zeaxanthin) এই দুটো ভিটামিন যা আপনার চোখ রক্ষা করে । ডিম আর সবুজ শাকে আছে এই ভিটামিন ।
আপনার ত্বক এবং আপনার শরীরের উপর ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও, ধূমপান আপনার চোখের উপর একটি প্রতিকূল প্রভাব হতে পারে।
ধূমপান আপনার চোখে কিছু স্বাধীন মৌল সৃষ্টি করে । এই স্বাধীন মৌল গুলো হল কেমিক্যাল পদার্থ যা আপনার কোষ কে আঘাত করে আর আপনার শরীরে থাকা ভালো কেমিক্যাল গুলো মেরে ফেলে । এই সব স্বাধীন মৌল উৎপাদন ছাড়াও ধূমপান অনেক বেশি মত্রায় বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন করে যা ছানি পড়তে সাহায্য করে ।
গবেষণায় বলছে ইউ ভি আলো বা অতি বেগুনি রশ্মি চোখে অবস্থিত প্রোটিন কে ক্ষতিগ্রস্ত করে যা চোখের লেন্স এ অবস্থিত । তাই তারা বলে চোখ রক্ষা করতে সান গ্লাস পড়তে যা এই আলো কে চোখে পৌছাতে আটকায় । যখন সান গ্লাস কিনবেন দেখবেন এই গুলো আছে কিনা ;
সেকেন্ডারি ছানি পরা বিশেষত রোগের কারনে হয় যেমন ডায়বেটিস । ডায়বেটিস রোগীদের ছানি পরা খুব দ্রুত গতিতে হয় সাধারণ মানুষের চেয়ে । যদি আপনার রক্তের চাপ খুব বেশি থাকে অনেক দিন ধরে তাহলে আপনার চোখের পর্দা বা লেন্স ফুলে উঠবে । এই লেন্স আপনার রক্তের শর্করা পরিবর্তন করে সর্বিটলে । যখন সর্বিটল পুঞ্জিভুত হয় চোখে যার জন্য আপনি চোখে কম দেখেন এর ফলে চোখে ছানি পরে ।
আপনার চোখের ডাক্তার আপনার চোখের যে কোনও সমস্যা ধরে ফেলবে । তাই বলা হয়ে থাকে যে যদি আপনার বয়েস ৪০- ৬৪ বছর হয় তাহলে আপনি নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করুন প্রত্যেক ২-৪ বছর অন্তর । যদি আপনার বয়েস ৬৫ বছর হয় , তাহলে চোখের পরীক্ষা প্রত্যেক ১- ২ বছর অন্তর করুন । যদি আপনার চোখের সংক্রমণ এর খুব বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনার চোখের ডাক্তার আপনাকে নিয়মিত চোখ দেখাতে বলবেন ।
এই পদ্ধতি গুলো আপনার চোখে ছানি পরা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে । এই ছানি পরা বিষয়ে বিশদ জানতে বা বুঝতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ এর সাথে আলোচনা করুন ।
COMMENTS (0)