Home / Uncategorized / কিছু খাবার খাওয়ার উচিত আর অনুচিত সময়
ওজন কম রাখতে আর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সঠিক খাদ্য খাওয়া আব্যশক কিন্তু, সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খাওয়া উচিত যা আমরা অনেকেই উপেক্ষা করে থাকি । অতএব, ফলস্বরূপ, বিভিন্ন প্রচেষ্টা করেও আপনি সঠিক স্বাস্থ্য পান না অথবা ওজন কমাতে সফল হন না । সাধারণত দিনে ৫ বার খাওয়া উচিত , কিন্তু জানেন কি কোন সময় এ কি কি খাবার খাওয়া উচিত ।
চলুন একটু গভীরে আলোচনা করি সেই সব খাবার নিয়ে যা আপনি রোজ খান। এটা আপনাকে সাহায্য করবে কোন খাবার কোন সমায়ে খাবেন যাতে সঠিক ফল পেতে পারেন । নীচের পদ্ধতি মেনে চললে কিছু ওজন আপনি সহজেই কমাতে পারবেন আর সুস্থ থাকতে পারবেন ।
Table of Contents
কলা তে আছে ফাইবার আর পটাসিয়াম যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কলা তে আছে ম্যাগনেসিয়াম যা আপনার ত্বক ভালো রাখে ।লোকেরা অন্ধের মতো বিশ্বাস করে যে কলা যে কোনও সময়ে খাওয়া যায় হজম ভালো হওয়ার জন্য । কিন্তু এটা সঠিক না । কলা দুপুরে খান বা দিনের মাঝখানে। রাতে কখনই কলা খাবেন না এতে শ্লেষ্মা সৃষ্টি হয় আর হজমেও অসুবিধা করে ।
ভাতে আছে প্রচুর পরিমানে শর্করা , তাই সকালে ভাত খাওয়া কার্যকারী । এটা আপনার পেট ভর্তি রাখে আর অনেকক্ষণ আপনার কার্যক্ষমতা বজায় রাখে । ভাত হচ্ছে আমাদের প্রধান খাদ্য আর তাই আপনি কখনও রাতেও ভাত খেয়ে নেন । আপনি হয়তো মনে করেন অল্প ভাত খেলে কিছু হবেনা , শর্করা থাকার দরুন রাতে সেই অল্প ভাতও আপনার ওজন বাড়িয়ে দেবে ।
আলু সে ভাজা বা সেদ্ধ হোক সকলের প্রিয় । কিন্তু রাতে আলু খাওয়া মানে বেশ অনেকটা ক্যালোরি বাড়ানো যা আপনার ওজন কমানোর থেকে বাড়িয়ে দেয় । আলু তে আছে ম্যাগনেসিয়াম , ভিটামিন , আর ফাইবার যা সকালে জল খাবারে খেলে পেট খুব ভর্তি থাকে আর অনেকক্ষন আপনার কার্যক্ষমতা বজায় রাখে । তাই সকালে আলু খান জল খাবারে ।
আপেলে আছে পেক্তিন (ফলমধ্যে প্রাপ্ত শালিজাতীয় পদার্থবিশেষ ), যা আপনার রক্তে শর্করা মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে আর আপনার কোলেস্টেরোল কে প্রতিপালন করে । তাই আপেল সকালে জল খাবারে বা স্ন্যাকস খাবার সময়ে খাওয়া উচিত । আপেল এ আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর ফাইবার যা আপনার এনার্জি বাড়িয়ে তোলে । কিন্তু আপেল রাতে বা সন্ধ্যে তে খাওয়া একদম উচিত না কারণ পেক্তিন থাকা ফল সহজে হজম হয় না ।
বাদামে আছে প্রচুর পরিমানে এনার্জি যেমন অসম্পৃক্ত ফ্যাট আর ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড । আপনি এক মুঠো বাদাম জল খাবারে খেতে পারেন কিন্তু কখনই রাতে খাবেন না কারণ এতে আপনি নিজের ওজন বাড়াতে সাহায্য করবেন ।
আপনি হয়তো ভাবছেন এক কাপ বিন্স খাবেন সকালের জল খাবারে পাউরুটির সাথে , এটা খুব সুস্বাদু শুনতে লাগে , কিন্তু আপনি দুপুরে না খেয়ে এটা বেঠিক সময় খাচ্ছেন । ডাল আর বিন্স উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ যা আপনার কোলেস্ট্রল কে নিয়ন্ত্রণ করে যখন সেটা দুপুরে খাওয়া হয় ।
দুধ একদম বিপরীত খাবার ওপরে খাবার গুলোর তুলনায় কারণ এটা রাতে খাওয়া উপকারী । দুধে আছে ক্যালসিয়াম ,ট্রিপটোফেন আর ভিটামিন ডি যা ভালো ঘুমের জন্য উপকারী । এতে ওজন কম করতে সাহায্য করে আর আপনার বিভিন্ন ধরণের খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কে দমন করে । তাই রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ খেয়ে শোবেন।
যদি আপনার রাতে ঘুম না আসে এবং টুকটাক খেতো ইচ্ছে করে তাহলে কি ফ্রিজ থেকে বার করে মাঝে মাঝে চীজ কিউব মুখে দেন ! কথায় আছে রাতে কোনও রকম দুধ জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত না । যদিও এটা ঠিক নয় , ব্যক্তি বিশেষে হজম ক্ষমতার ওপর এটা নির্ভর করে। চীজে আছে ট্রিপটোফেন যা ঘুম আনতে সাহায্য করে । কিন্তু রাতে বেশি করে চীজ খেয়ে শুয়ে পড়ল , বিনা পরিশ্রমে ঠিকমতন হজম না হওয়ার ফলে আপনার পাচক পদ্ধতিকে সাহায্য করবে চর্বি উৎপাদন করতে । তাই সঠিক সময় চীজ খাওয়ার হল সকালে পাউরুটির সাথে যা আপনাকে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম আর পুষ্টি প্রদান করবে পুরো দিন ধরে । অনেক সময় থাকবে চিজ এর ভালো করে হজম হওয়ার জন্য ।

সকাল বেলা চিনি খেলে যা আপনার শর্করা তে যোগ হবে আর যা আপনাকে সাহায্য করবে সারাদিন চাঙ্গা আর সুস্থ থাকতে । কম পরিমানে চিনি খাওয়া ভালো , কিন্তু অতিরিক্ত খেলে ওরেক্সিন কোষে ক্ষতি করতে পারে, যা আপনাকে অলস করে তুলবে ।রাতে চিনি খাবেন না এতে আপনার ঘুম নষ্ট করে আর আপনার ক্যালোরি বাড়িয়ে তোলে ।
দই হল প্রবাওটিক যা আপনার হজম শক্তি ভালো রাখে ।সকালে এক কাপ দই আপনার দিনের সঠিক শুরু । রাতে দই খেলে কফ জমে , তাই এই ক্ষত্রে আপনি ঘোল খেতে পারেন ।
ওপরের কিছু আপনার প্রতিদিনের খাবার দেওয়া আছে যেখানে বলা হয়েছে সেই সব খাবারের কথা যা সহজেই হজম করা যায় রাতে আর যা আপনার পাচন তন্ত্র কে ভালো রাখে আর সেই সব খাবার যা সকালে খেলেও হজম করতে আসুবিধা হয়।
COMMENTS (0)