Home / Kids Health in Bengali / ডেঙ্গুর কিছু লক্ষণ যার থেকে সতর্ক থাকুন
ডেঙ্গু মশা বাহিত রোগ যা এডিস মশা থেকে হয় , এই রোগ পৃথিবীর প্রায় ১০০ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে । প্রাথমিকভাবে সনাক্তকরণের পর তাড়াতাড়ি সঠিক চিকিৎসা শুরু হওয়া উচিত।ডেঙ্গু কে বলা হয় ভাঙ্গন জ্বর বা ব্রেকডাউন ফিভার । সাধারণত একটি ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী মশার দংশন থেকে হয় এই রোগ এবং ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই রোগের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু । যত দিন যায় এই রোগ মারাত্মক হয়ে ওঠে যদি না সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হয়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু হয় ।
ডেঙ্গু হয় এডিস ইজিপ্টি মশার কামড়ে । এই মশার ভাইরাস কোন অসুস্থ রোগীর থেকে অন্য মানুষের শরীরের সরাসরি পৌছায়না । এই মশা ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে কামড়ে তৎক্ষণাৎ আবার কাউকে কামড়ালে মশার দ্বারা আগের ব্যাক্তির রক্তে থাকা ডেঙ্গুর জীবাণু বর্তমান রোগীর দেহে প্রবেশ করে । তাই আপনাকে এই রোগ থেকে দূরে থাকতে সাধারণভাবে, মশার থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে ।
সাধারণত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষ এর উপসর্গ দেখা যায় মশা কামড়ানোর ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে । প্রথম পর্যায়ে রোগীর মাথা ব্যাথা , ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর উঠে যাওয়া , বমি করা , গা গুলানো , খাওয়ার প্রতি অনীহা , গাঁটে ব্যাথা, চোখে ব্যাথা , কাঁপুনি দেওয়া , লসিকাগ্রন্থি তে জ্বালা ভাব , আর লাল লাল ফুসকুড়ি যা শরীরে দেখা দেয় আর মিলিয়ে যায় ।
দ্বিতীয় পর্যায়ে শরীরের তাপ মাত্রা আকস্মিক ভাবে কমে যায় আর তৃতীয় পর্যায়ে সারা শরীরে লাল লাল দাগ বা ফুসকুড়ি তে ভরে যায় আর শরীরের তাপ মাত্রা বেড়ে যায় । বেশির ভাগ সময় রোগী বুঝতে পারেনা আর লক্ষণ গুলো ধরতে পারেনা যতক্ষণ না চিকিৎসক এর দ্বারস্থ হয় ।
যখন পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে তখন রক্তের প্লেটলেট কমতে থাকে (প্লেটলেট হলো এমন একটি রক্ত কণিকা যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে), রক্তের চাপ কমতে থাকে সাথে পেটে ব্যাথা আর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয় যা প্রাণনাশক পর্যন্ত হতে পারে ।
মনে রাখবেন ডেঙ্গুর মশা খুব ভোরে আর সন্ধ্যার শুরুতে বেশি সক্রিয় থাকে । তাই যখন বাইরে থাকবেন এর সব সতর্কতা মেনে চলুন ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে ঃ
১। সারা শরীরে মশা তাড়ানোর ওষুধ মেখে নিন আর জামা কাপড়েরও ।
২। মশা মারার কীটনাশক ব্যবহার করুন।
৩। মশার হাত থেকে বাঁচাতে টিকা লাগান যা অনুমোদিত আর সহজে আপনার এলাকায় পাওয়া যায় ।
৪। খেয়াল রাখবেন জমা জল যেন আপনার আসে পাশের এলাকায় না থাকে ।
৫। আবর্জনা সরিয়ে ফেলুন , জমতে দেবেন না ।
৬। হালকা রঙের জামা পরে বাইরে যান , চড়া রঙের জামায় মশা বেশি আকর্ষিত হয় ।
৭।মশা যেখানে জন্ম নেয় সেই সব জিনিস বাড়ির চারপাশ থেকে সরিয়ে ফেলুন যেমন টায়ার বা গাড়ির পরিত্যক্ত চাকা, ফুলের টব , ডাস্টবিন বা আবর্জনা ফেলার জায়গা , জলের ট্যাঙ্ক সব সময় পরিষ্কার রাখুন ।
Image source: Wikipedia Commons, Flickr
COMMENTS (0)