Search

HOME / তামার কাপে জল খাওয়ার কি কি উপকারিতা আছে ?

তামার কাপে জল খাওয়ার কি কি উপকারিতা আছে ?

Tanuja Acharya | ডিসেম্বর 10, 2018

আপনি হয়তো শুনেছেন প্রাচীন কালে তামার পাত্র তে জল খাওয়ার অভ্যাস , কিন্তু সাম্প্রতিক কালে ফিল্টার এর  যুগে যেমন উভি ( UV ) আর আর ও ( RO ) সংশোধক আসা তে মানুষ তামা ব্যবহার করা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে । প্রাচীনকালে আয়ুর্বেদের মতে পানীয় জল তামার পাত্রে ব্যবহার  মানুষের শরীরের প্রচুর উপকারিতা আনে ।

 

১। মস্তিস্ক উদ্দীপিত করে

তামার পাত্রে জল খেলে মস্তিস্ক উদ্দীপিত হয় । এতে মস্তিক কে বেশি সক্রিয় , মস্তিস্কের ক্রিয়া ধারালো  , আর বুদ্ধি প্রখর করে ।

 

২। আর্থারাইটিস এর ব্যাথায় আরাম দেয়

তামা তে আছে শক্তিশালী বিরোধী প্রদাহজনক বৈশিষ্ট্য । এই বৈশিষ্ট্য খুব কার্যকারী ব্যাথা আর জন্ত্রনার জন্য , বিশেষ করে সেই সব ব্যাথা যা আর্থারাইটিস আর (rheumatoid ) ফোলানো আর্থারাইটিস এর  উৎস । এর সাথে যোগ করে , তামা হাড় আর রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা কে শক্তিশালী করে ।

 

৩ । ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে

তামা হল এমন এক  মূল উপাদান মেলানিন – একটি রঙ্গক যা আপনার চোখের রঙ, চুলের রঙ আর ত্বকের রঙ  নিয়ন্ত্রণ করে । তামা নতুন কোষ জন্ম দেয় যা ত্বক পরিপূর্ণ করে আর ত্বক নরম আর কোমল বানায় ।

 

৪। থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন বেশির ভাগ মানুষ যারা থাইরয়েডে ভুগছেন তাদের শরীরের তামার অভাব দেখা গেছে । যদিও শরীরে তামার নিম্ন স্তর দেখা যায় যাদের হাইপার থাইরয়েড আছে ( বেশি থাইরয়েড হরমোন ) আর যারা হাইপো থাইরয়েড এর ভুগছেন ( নিন্ম স্তর থাইরয়েড হরমোন এর  ) তারাও তামার অভাব শরীরে বহন করেন ।

 

৫। বয়েস কম করার প্রক্রিয়া

তামা তে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট আর নতুন কোষ জন্ম দেওয়ার বৈশিষ্ট্য, এটা শরীর কে স্বাধীন মৌল থেকে রক্ষা করে যার ফলে  ত্বকে সূক্ষ্ম দাগ আর বলিরেখার উৎপত্তি হয় ।

 

৬। হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়

তামা শুধু খাদ্যনালি পরিষ্কার আর বিশুদ্ধ করে তা শুধু নয় ,  যকৃৎ (লিভার ) আর বৃক্ক (কিডনি) র কাজ কেও নিয়ন্ত্রণ করে । তামা শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বার করে আর পুষ্টি কে সঠিক ভাবে খাবারের দ্বারা শরীরে বিভিন্ন অংশে পৌছাতে সাহায্য করে ।

 

৭। ক্ষতিকারক জীবাণু ধংস করে

তামার পাত্রে জল রাখা আর তামার কাপে জল খাওয়া প্রাকৃতিক ভাবে শুদ্ধি  তৈরি করে শরীরে । তামা সেই সব অনুজিব ধংস করে যেমন ব্যাকটেরিয়া , ফাঙ্গি আর জল কে পানের উপযোগী করে তোলে ।

 

৮। অ্যানেমিয়া থেকে মুক্ত করে

তামা শরীরে থাকা নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে সব থেকে প্রাথমিক উপাদান , নতুন কোষ জন্ম দেওয়া থেকে শুরু করে আয়রনের শোষণক্রিয়া , তামা শরীরের জন্য খুব কার্যকারী খনিজ পদার্থ ।

 

৯। ক্যান্সার আর হৃদ রোগের সম্ভাবনা কমায়

 তামার অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট বৈশিষ্ট মুক্ত মৌল থেকে লড়াই করে আর তাদের ক্ষতিকারক প্রভাব কে অকার্যকর করে । এই মৌল গুলো ক্যান্সার হওয়ার মূল কারণ । এ ছাড়াও তামা ,রক্তের চাপ্‌, হার্ট রেট , নিন্ম ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল , শরীরের ট্রাইগ্লিসারাইড কম করতে সাহায্য করে ।

 

সময়ের সাথে আমারা বুঝেছি কি ভাবে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই তামার ব্যবহারের সুবিধা নিত । তাই তামার পাত্রে জল খাওয়া শুরু করে দিন আর দৈনন্দিন জীবনের গ্লাস বর্জন করুন।

BLOG TAGS

Health Information